নোট বিতর্কে দেশ জুড়ে সমালোচনার জের। প্রকাশ্য জনসভায় কেঁদে ফেললেন মোদী
নিজস্ব প্রতিবেদন | নভেম্বর ১৩, ২০১৬
Share it on
দেশে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের পরে এটাই ছিল মোদীর প্রথম প্রকাশ্য বক্তৃতা। সেখানেই কালো টাকা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন মোদী।
গোয়ার জনসভায় প্রধানমন্ত্রী
গত ৮ নভেম্বর মধ্যরাত থেকে দেশে নিষিদ্ধ হয়ে গিয়েছে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট। এই সিদ্ধান্তের কারণে দেশের বহু মানুষের প্রশংসা যেমন কু়ড়িয়েছেনল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, তেমনই সাধারণ মানুষের হয়রানির কথা ভেবে অনেকে আবার তীব্র সমালোচনাও করেছেন তাঁর। রবিবার এই সমালোচকদের জবাব দিতে গিয়ে প্রকাশ্য জনসভায় কেঁদে ফেললেন মোদী।
গোয়ার মোপায় নতুন এয়ারপোর্টের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে গিয়েছিলেন মোদী। সেখানেই আয়োজিত একটি জনসভায় তিনি ভাষণ দিচ্ছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের পরে এটাই ছিল মোদীর প্রথম প্রকাশ্য বক্তৃতা। সেখানেই কালো টাকা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আবেগতাড়িত হয়ে প়ড়েন মোদী।
সচেতনভাবে টাকা নিষিদ্ধ করার প্রসঙ্গ টেনে আনেন মোদী। বলেন, ‘৮ নভেম্বর রাত্রে কিছু মানুষ নিশ্চিন্তে ঘুমিয়েছেন, আর কিছু মানুষের এখনও রাতে ঘুম হচ্ছে না। কালো টাকার বিরুদ্ধে সৎ দেশবাসীর লড়াইয়ের ক্ষেত্রে আমরা একটা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে চেয়েছিলাম, যাতে কালো টাকার কারবারিদের পরাস্ত করা যায়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত কিছু মানুষ তাঁদের নিজেদের জগতে বিলীন হয়ে রয়েছেন। ভারতে যদি কোনও টাকা লুঠ হয়, এবং সেই টাকা যদি বিদেশ পাড়ি দেয়, তাহলে সেই টাকা খুঁজে বের করা আমাদের দায়িত্ব।’
এরপরে মোদী বলে চলেন, ‘কোন উচ্চ পদে বসার জন্য আমার জন্ম হয়নি।’ এরপর আবেগে গলা বুজে আসে মোদীর। থেমে থেমে, অনেকটা সময় নিয়ে তিনি বলে চলেন, ‘আমার যা কিছু ছিল— আমার পরিবার, আমার বাড়িঘর— সব আমি ছেড়ে এসেছি দেশের জন্য।’ হাততালিতে ফেটে প়়ড়ে উপস্থিত জনতা, ‘মোদীজি কি জয়’ আওয়াজ উঠতে থাকে। মোদীর চোখে তখন চিকচিক করছে জল।
মোদী আরও বলেন, ‘আমি নিজেও কষ্ট পাচ্ছি। যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা স্বেচ্ছাচারী পদক্ষেপ নয়। আমি নিজের চোখে দারিদ্র্য দেখেছি, সাধারণ মানুষের কষ্ট আমি বুঝি।’
নিজের সমালোচকদের একহাত নিয়ে মোদী বলেছেন, ‘আমি জানি কারা আমার বিরুদ্ধতা করছে, তারা হয়তো আমাকে বাঁচতে দেবে না, আমার সর্বনাশ করবে, কারণ ৭০ বছর ধরে যে লুঠের সম্পত্তি তারা সঞ্চয় করেছিল, আমার জন্য সেই সম্পদের ভবিষ্যৎ এখন অন্ধকার।’
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিজের সমালোচকদের চুপ করানোর জন্য ভাল রাস্তা নিয়েছেন মোদীজি। আবেগের সঙ্গে যুক্তি মিশিয়ে যেভাবে তিনি আজ দেশবাসীর মন জয় করে নিলেন, তাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে তাঁর সিদ্ধান্তের গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়ল।
0 comments:
Post a Comment